বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে জমজ দুই শিশু এবং নববিবাহিত বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-ইমরান।

নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নিহত ১৪ জনের মধ্যে ১১ জনই মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্য। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাসটি রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বিয়ে বাড়ি আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।

নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) মামা আবু তাহের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় আমার ভাগ্নি মার্জিয়ার সাথে মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আ. রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাসটি মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে রামপালে পৌছালে এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া ও নানী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বরের সঙ্গে আরও ১১ জন মারা গেছেন।

পরিচয় নিশ্চিত করে নববধুর মামা নাসিমউদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাগনির আজ বিয়ে হয়েছে। বিয়ে অনুষ্ঠান শেষে সবাই মাইক্রোবাসযোগে ফিরছিলেন। পথে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে তারা নিহত হন। তার ভাগনি ছাড়া আরও একই পরিবারের ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নববধূসহ তিনজনের বাড়ি কয়রা উপজেলায়।’

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, হাসপাতালে শিশুসহ চারজনকে নিয়ে আসা হয়। এখানে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ এখন হাসপাতালে আছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আটজন নিহত এবং ২ জনকে আহত অবস্থায় মেডিকেলে আনা হয়। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিরাও মারা যান।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রয়েছে। বাকি মরদেহগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

এ ঘটনার পর বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশ দেন। মোংলা পৌর ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ রাজ্জাকসহ তার পরিবারের সদস্যরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ তিনি গভীর সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে নিহতদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব কামনা করেন।